সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন
মাঠে লুটিয়ে পড়া এক প্রতিভার লড়াই আবার শুরু!
অনলাএন ডেস্ক
ক্লাব বিশ্বকাপে পিএসজির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ভয়ংকর চোটে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বায়ার্ন মিউনিখের উঠতি তারকা জামাল মুসিয়ালাকে। প্রথমার্ধের শেষদিকে দোন্নারুম্মার সঙ্গে সংঘর্ষে ভেঙে যায় তার বাঁ পায়ের হাড়, স্থানচ্যুত হয় গোড়ালি। তবে এই ভয়াবহ ঘটনার পরও দোষ চাপাননি কাউকে, বরং মুসিয়ালার শান্ত ও পরিণত বক্তব্য— ‘এটা ফুটবলে ঘটতেই পারে।’
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে পিএসজি গোলরক্ষক দোন্নারুম্মার সঙ্গে জোরালো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন মুসিয়ালা। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মাঠে ঢোকে মেডিকেল স্টাফ, মুহূর্তেই স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তরুণ তারকা।
পরে স্ক্যান রিপোর্টে জানা যায়, মুসিয়ালার বাঁ পায়ের ফিবুলা হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে এবং গোড়ালির জয়েন্ট স্থানচ্যুত হয়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে জার্মানির মিউনিখে ফিরিয়ে আনা হয়, যেখানে সফলভাবে সার্জারি সম্পন্ন হয়।
এমন ভয়াবহ মুহূর্ত পার করার পর মুসিয়ালা বুধবার ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘অপারেশন খুব ভালোভাবে হয়েছে, আমি ভালো আছি। একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই—এই দুর্ঘটনার জন্য আমি কাউকে দায়ী করি না। এটা ফুটবলের অংশ। এখন আমার লক্ষ্য দ্রুত সেরে ওঠা এবং শক্তভাবে ফিরে আসা।’ ফুটবলপ্রেমীরা মুগ্ধ এই তরুণের ইতিবাচক মনোভাবে।
যদিও মুসিয়ালা নিজে কাউকে দোষারোপ করেননি, কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখের অন্যরা বিষয়টি হালকাভাবে নেননি। দলের গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার বলেন, ‘দোন্নারুম্মার ট্যাকলটা ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। এমন চ্যালেঞ্জ বিপদ ডেকে আনবেই।’ একইভাবে ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক ম্যাক্স এবার্ল বলেন, ‘ওর মতো ছেলের সঙ্গে এমন কিছু ঘটবে, সেটা খুবই দুঃখজনক। পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
ঘটনার পর দোন্নারুম্মা সামাজিক মাধ্যমে মুসিয়ালার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে লেখেন, ‘তোমার জন্য প্রার্থনা ও শুভকামনা রইলো।’ জবাবে মুসিয়ালাও দারুণ সৌজন্য দেখিয়ে বলেন, ‘শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ, চিন্তা করো না—এটাই ফুটবল।’
বায়ার্ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই গুরুতর ইনজুরির কারণে মুসিয়ালা কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকবেন। নতুন মৌসুমের শুরুতে তাকে মাঠে দেখা যাবে না বলে নিশ্চিত করেছেন ক্লাব কর্তারা। এবার্ল বলেন, ‘মুসিয়ালার এই চোট কেবল তার জন্য নয়, বরং পুরো দলের জন্য বড় ধাক্কা।’
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০২০ সালে বায়ার্নের হয়ে অভিষেক হয় জামাল মুসিয়ালার। ২০২৪ সালে তিনি নির্বাচিত হন জার্মানির বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে। এছাড়া ২০২৩ সালে গোল্ডেন বয় অ্যাওয়ার্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। গেল মৌসুমে তার নামের পাশে ছিল ২১ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট, যার পেছনে ছিল বুন্দেসলিগা জয়ী দলের মূল ভূমিকা।